মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটল। মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (Multiple Entry Visa বা MEV) সুবিধা চালু করেছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) থেকে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ভিসা প্রদান শুরু করেছে, যা প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।
মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুবিধা ও বিস্তারিত
এতদিন মালয়েশিয়া ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিলেও কেবল বাংলাদেশিদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার নিয়ম ছিল। ফলে কর্মীরা একবার দেশে গেলে পুনরায় ফিরে আসতে নানা জটিলতায় পড়তেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যেসব বাংলাদেশি কর্মীর কাছে বৈধ অস্থায়ী ওয়ার্ক ভিজিট পাস (PLKS) রয়েছে, তাদের নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। আগামী বছর যখন তারা তাদের পাস নবায়ন করবেন, তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা যুক্ত হয়ে যাবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্য
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এই সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষ করে এ বছরের মে মাসে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং লুৎফে সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। সরকারের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই ১০ জুলাই মালয়েশিয়া সরকার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের এই নতুন ভিসা সুবিধা প্রদানের ফলে কয়েকটি বিশেষ লাভ হবে:
সহজ যাতায়াত: কর্মীরা এখন জরুরি প্রয়োজনে বা ছুটিতে সহজেই দেশে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।
ভিসার চাপ হ্রাস: বিদেশের মালয়েশিয়ান মিশনগুলোতে বারবার নতুন ভিসার আবেদনের ভিড় কমবে।
পাসের অপব্যবহার রোধ: ইমিগ্রেশন পাসের অবৈধ ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে।
মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুক বা বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের যেকোনো ভিসা সংক্রান্ত পরামর্শ বা সহযোগিতার জন্য আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় প্রবাসীরা প্রতারিত হন, তাই নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য অভিজ্ঞ ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা নেওয়া জরুরি।
ভিসা প্রসেসিং বা বিদেশে যাতায়াত সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য আমাদের কন্টাক্ট পেজ ভিজিট করুন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের লেটেস্ট আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের ব্লগে। মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি কর্মীদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


