বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাত্রা করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। এই প্রশিক্ষণ আপনাকে বিদেশে একটি নিরাপদ ও সফল জীবন শুরু করতে সাহায্য করবে। এই পোস্টে আমরা বিদেশে যাওয়ার পূর্বে আপনার করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. বিদেশে যাওয়ার জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন?
বিদেশে যাওয়ার সুযোগ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সঠিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অনুসন্ধানের জন্য কিছু নির্ভরযোগ্য উৎস নিচে উল্লেখ করা হলো:
- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET): বাংলাদেশ সরকারের এই প্রধান সংস্থাটি বিদেশে কর্মী নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের যাবতীয় কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (http://www.bmet.gov.bd/) এবং জেলা কর্মসংস্থান অফিসগুলোতে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা পাবেন।
- অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি: সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও বিদেশে কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে থাকে। BMET এর ওয়েবসাইটে আপনি অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা খুঁজে নিতে পারেন। তবে, কোনো এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে তাদের লাইসেন্স এবং কাজের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভালোভাবে নিশ্চিত হন।
- সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস: আপনি যে দেশে যেতে আগ্রহী, সেই দেশে অবস্থিত দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকেও ভিসা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারেন। কিছু দূতাবাস সরাসরি চাকরির বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে থাকে।
- সরকারি অনলাইন পোর্টাল: বাংলাদেশ সরকারের “আমার গ্রাম আমার শহর” বা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” পোর্টালেও বিদেশে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও লিংক পাওয়া যায়।
২. বিদেশে যাওয়ার আগে কি ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন?
বিদেশে একটি নতুন জীবন শুরু করার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিচে কিছু জরুরি প্রস্তুতি উল্লেখ করা হলো:
- পাসপোর্ট ও ভিসা: আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। এরপর আপনি যে দেশে যেতে চান, সেই দেশের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
- স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান: বিদেশে যাওয়ার আগে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও টিকাদানের প্রমাণপত্র সাথে রাখুন।
- প্রশিক্ষণ গ্রহণ: অনেক দেশে যাওয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট ধরণের প্রশিক্ষণ, যেমন – ভাষা শিক্ষা বা কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নেওয়া আবশ্যক। BMET এবং অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই প্রশিক্ষণগুলো পাওয়া যায়।
- আর্থিক প্রস্তুতি: বিদেশে যাওয়ার বিমান ভাড়া, ভিসা ফি এবং প্রাথমিক জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করুন। প্রয়োজনে ব্যাংক লোন বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তার উৎস সম্পর্কে খোঁজ নিন।
- গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র: আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, টিকাদানের প্রমাণপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের মূল কপি নিরাপদে রাখুন এবং একাধিক ফটোকপি সাথে রাখুন।
- ভাষা শিক্ষা: আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার স্থানীয় ভাষার কিছু মৌলিক জ্ঞান থাকলে আপনার দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হবে।
- সাংস্কৃতিক জ্ঞান: গন্তব্য দেশের সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং আইন কানুন সম্পর্কে জেনে নিন। এটি আপনাকে সেখানকার পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হবে।
- যোগাযোগের ব্যবস্থা: বিদেশে আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করে নিন।
৩. আদম ব্যবসায়ীর প্রতারণা হতে সাবধান থাকার উপায়
কিছু অসাধু ব্যক্তি আদম ব্যবসার নামে প্রতারণা করে থাকে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখুন:
- অবাস্তব প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন: যারা খুব সহজে এবং অস্বাভাবিকভাবে কম খরচে বিদেশে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখায়, তাদের থেকে দূরে থাকুন।
- রিক্রুটিং এজেন্সির সত্যতা যাচাই: কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে BMET এর ওয়েবসাইট থেকে তাদের লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিন।
- চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ুন: নিয়োগের শর্তাবলী, বেতন, কাজের ধরণ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা তা মনোযোগ সহকারে পড়ুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন।
- অগ্রিম অর্থ প্রদানে সতর্কতা: ভিসা বা অন্য কোনো কাজের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে কখনোই বড় অঙ্কের টাকা অগ্রিম দেবেন না।
- সন্দেহজনক আচরণ চিহ্নিত করুন: যারা ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখে, অফিসে না ডেকে অন্য কোথাও দেখা করতে বলে অথবা অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়, তারা প্রতারক হতে পারে।
- প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: রিক্রুটিং এজেন্সি বা অন্য কারো সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ এবং লেনদেনের লিখিত প্রমাণ (যেমন – রসিদ, ইমেইল) সংরক্ষণ করুন।
- সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসা করুন: কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে BMET অথবা আপনার পরিচিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করুন।
৪. কিভাবে বৈধ উপায়ে স্বল্প খরচে বিদেশে যাওয়া যায়?
বৈধ উপায়ে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশে যাওয়ার কিছু উপায় রয়েছে:
- সরকারিভাবে নিয়োগ: BMET এর মাধ্যমে সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশে কর্মী নিয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত বেসরকারি এজেন্সির তুলনায় খরচ কম হয়। নিয়মিত BMET এর ওয়েবসাইটে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
- সরাসরি নিয়োগ: কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানি সরাসরি কর্মী নিয়োগ করে থাকে। তাদের ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য জব পোর্টালের মাধ্যমে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী না থাকায় খরচ কিছুটা কম হতে পারে।
- দক্ষতা বৃদ্ধি: নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করলে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা বিমান টিকিট ও ভিসার খরচ বহন করে থাকেন।
- স্টুডেন্ট ভিসা: যদি আপনার বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ থাকে, তাহলে স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমেও বিদেশে যাওয়া সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে কাজেরও সুযোগ থাকে।
- ফ্রি ভিসা/ওয়ার্ক পারমিট: কিছু দেশে ফ্রি ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়, যেখানে কর্মীর নির্দিষ্ট কোনো নিয়োগকর্তা থাকেন না। তবে এক্ষেত্রে কাজের সন্ধান এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়।
৫. শ্রম জনশক্তি ব্যুরো কিভাবে বিদেশে যাবার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা প্রদান করে?
শ্রম জনশক্তি ব্যুরো (BMET) বিদেশ গমনে ইচ্ছুক কর্মীদের বিভিন্ন ধাপে সহায়তা করে থাকে:
- নিবন্ধন: আগ্রহী কর্মীদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করে একটি ডেটাবেজ তৈরি করে।
- চাকরির বিজ্ঞপ্তি: বিভিন্ন দেশের নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
- প্রশিক্ষণ: বিদেশে যাওয়ার আগে ভাষা শিক্ষা, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
- নিয়োগ তদারকি: সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করে এবং বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের উপর নজর রাখে।
- তথ্য সরবরাহ: বিদেশ যাওয়ার নিয়মকানুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আনুমানিক খরচ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
- পরামর্শ ও সহায়তা: বিদেশ গমনে ইচ্ছুক কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি: রিক্রুটিং এজেন্সি বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রতারিত হলে অভিযোগ গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করে।
৬. বিদেশে যাওয়ার যাত্রাপথে বিদেশগামীকে কি কি কাজ করতে হবে?
বিদেশে যাওয়ার সময় যাত্রাপথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আপনাকে করতে হবে:
- কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন: আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একটি ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন যা সহজে বহন করা যায়।
- বিমানবন্দরের নিয়মকানুন অনুসরণ: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা মনোযোগ সহকারে মেনে চলুন।
- সময়ানুবর্তিতা: আপনার ফ্লাইটের সময়সূচী অনুযায়ী যথেষ্ট সময় আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
- ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের নিরাপত্তা: আপনার লাগেজ এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখুন।
- বিমানকর্মীদের সহায়তা নিন: কোনো জিজ্ঞাসা বা সমস্যার সম্মুখীন হলে বিমানকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না।
- গন্তব্যে পৌঁছানোর পর: অবতরণের পর সেখানকার ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসের নিয়মকানুন মেনে চলুন। আপনার নিয়োগকর্তা বা পূর্বে যোগাযোগ করা কারো সাথে দেখা করুন।
৭. বিদেশে হতে পাঠানো টাকা কোথায় কিভাবে বিনিয়োগ করবেন?
বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিচক্ষণতা অবলম্বন করা উচিত। আপনার পাঠানো টাকা বিনিয়োগের কিছু সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ব্যাংক: বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক রেমিট্যান্স গ্রহণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় স্কিম ও ফিক্সড ডিপোজিট সুবিধা প্রদান করে। এখানে টাকা জমা রাখলে ভালো সুদ পাওয়া যেতে পারে।
- সঞ্চয়পত্র: সরকার বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্র ইস্যু করে, যেখানে বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট সময় পর নিশ্চিত মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।
- স্থাবর সম্পত্তি: জমি বা ফ্ল্যাট কেনা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল বিনিয়োগ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে আইনি দিকগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
- শেয়ার বাজার: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ উচ্চ রিটার্ন দিতে পারে, তবে এর সাথে ঝুঁকিও জড়িত। ভালোভাবে জেনে বুঝে এবং অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।
- ব্যবসা: ছোট বা মাঝারি আকারের ব্যবসা শুরু করার জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে এর জন্য সঠিক পরিকল্পনা, বাজার বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে।
- পারিবারিক প্রয়োজন: বিনিয়োগের পূর্বে আপনার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় রাখুন।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন বিকল্পের সাথে তুলনা করুন এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।
৮. বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস কি কি সেবা দেয় তা জানা
বিদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশী দূতাবাস প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত সেবা: নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা, পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।
- আইনগত সহায়তা: বিদেশে কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে বা কোনো অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা।
- কনস্যুলার সেবা: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিবাহ নিবন্ধন, এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করা।
- নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সেবা: বাংলাদেশী নাগরিকত্ব নবায়ন বা এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করা।
- দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়তা: কোনো প্রবাসী গুরুতর অসুস্থ হলে, আর্থিক সংকটে পড়লে বা অন্য কোনো কারণে দেশে ফিরতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।
- তথ্য ও পরামর্শ: স্থানীয় আইনকানুন, সংস্কৃতি এবং প্রবাসীদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা।
- যোগাযোগের মাধ্যম: দূতাবাস প্রবাসীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
বিদেশে থাকাকালীন কোনো সমস্যায় পড়লে বা সহায়তার প্রয়োজন হলে আপনার নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না। দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন।
৯. বিদেশে গমনের পর বিদেশে তার করনীয়
বিদেশে পৌঁছানোর পর একজন প্রবাসীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:
- নিয়োগকর্তার সাথে সাক্ষাৎ: আপনার নিয়োগকর্তার সাথে দেখা করে কাজের পরিবেশ, নিয়মকানুন এবং আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
- বাসস্থান গুছিয়ে নেওয়া: আপনার আবাসস্থলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন এবং সেখানকার নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত হন।
- স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিতি: স্থানীয় রীতিনীতি, ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন এবং তা মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করুন।
- আইন কানুন মেনে চলা: আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার আইন কানুন কঠোরভাবে মেনে চলুন।
- দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ: আপনার নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করুন।
- পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ: দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিতভাবে টেলিফোন বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন।
- আর্থিক পরিকল্পনা: আপনার আয় ও ব্যয়ের একটি বাজেট তৈরি করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করার চেষ্টা করুন।
- স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: নিজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি যত্ন নিন। কোনো অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার শিকার হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
১০. বিদেশে থাকাকালীন সময় তার জীবনযাত্রা
বিদেশে একজন প্রবাসীর জীবনযাত্রা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল, যেমন – কাজের ধরণ, বেতন, বসবাসের স্থান এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস। তবে কিছু সাধারণ চিত্র লক্ষ্য করা যায়:
- কঠোর পরিশ্রম: অনেক প্রবাসীকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
- মিতব্যয়িতা: ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার লক্ষ্যে অনেকেই হিসেবী জীবনযাপন করেন।
- সাংস্কৃতিক পার্থক্য: নতুন সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
- ভাষার গুরুত্ব: স্থানীয় ভাষার জ্ঞান না থাকলে দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং সামাজিক মেলামেশায় অসুবিধা হতে পারে।
- যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা: পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক।
- আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল: স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তা মেনে চলা জরুরি।
- সমস্যা ও সমাধান: প্রবাস জীবনে বিভিন্ন ধরনের অপ্রত্যাশিত সমস্যা আসতে পারে। ধৈর্য ধরে এবং সঠিক উপায়ে সেগুলোর সমাধান করতে হয়।
- সুযোগ ও সম্ভাবনা: কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং দক্ষতার মাধ্যমে প্রবাসে ভালো ক্যারিয়ার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব।
আমরা আশা করি এই বিস্তারিত আলোচনা আপনাকে প্রাক-বহির্গমণ প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বে আপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছে। আপনার বিদেশ যাত্রা নিরাপদ ও সফল হোক।


